বিগত দুই মাসে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে মূল্য সূচক ও টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজারে ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। বিগত চার মাসের ব্যবধানে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় যোগ হয়েছে ১৮টি কোম্পানি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির সংখ্যা অর্থাৎ ৪০-ঊর্ধ্ব পিই সম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৫২টি। শনিবার এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে।
এ সময়ের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে ৬৮৮ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন বেড়েছে ৪৫ হাজার ৬৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ১৮টি কোম্পানির যোগ হওয়ার পাশাপাশি অধিক ঝুঁকির তালিকায় যোগ হয়েছে আরও অনেক কোম্পানি।বর্তমানে আলহাজ্জ টেক্সটাইলের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭৪.৬৪ পয়েন্টে। যা গত ১ জুলাই ছিল ৭৪.৫৫ পয়েন্ট।
এমবি ফার্মার-৮১.২৯ (৭৫.৬),
আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের-১০৫.৩৮ (৯৫.২৫),
এসিআই লিমিটেডের ৫১.৪৫ (৪১.২৫),
আরামিট সিমেন্টের-৬৫.৪৪ (৬৬.১৮),
বঙ্গজের-৭০.১৬ (৮৮.০১),
বিডি অটোকারসের-৩০৬.২৫,
বিডি ল্যাম্পসের-১১১.০৭ (১২৭.৮৩),
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানির-৫৮.৮ (৬৩.৭৩),
দেশ গার্মেন্টসের-৮৪.৩৮ (১১১.৬৭),
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের-৬৩.৯৭ (৬৪.৩৯),
ইস্টার্ন ক্যাবলসের-৬৪.৬৪ (৬৪.২৯),
ইফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের-৬০.৫৬ (৫২),
কোহিনূর কেমিক্যালের-৪২.৯৬ (৪২.১৪),
লিবরা ইনফিউশনের ৯৮.২১ (৯৯.৪৮),
মিরাকল ইন্ডাষ্ট্রিজের-৮৫.১৮ (৯০.৫৪),
প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৮৪ (৬৪.১৭),
রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ৬১.৭৩ (৬২.১৪),
সমতা লেদারের-২৫২.৮৬ (২৮৮.২১),
লিগ্যাসী ফুটওয়্যারের-৯৪.৬৪ (৯৮.২১),
মুন্নু জুট স্টাফলারসের-৩৫৮.৮৮ (৮১.৮৮),
মুন্নু সিরামিকের-১০৪.৬৪ (১০২.১৪),
শমরিতা হাসপাতালের-৪২.০৫ (৪০.৪৫),
সাভার রিফ্র্যাক্টরিজের-১১১.৫৪ (১১১.৫৪),
সোনালী আঁশের-১৬১.০৫ (১৪১.৩৬) ও
ন্যাশনাল টিউবসের-৪২.৮ (৪০.৫৫)।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে পিই রেশিও বেড়েছে
মডার্ন ডাইংয়ের ৫০.৬৪ পয়েন্ট,
বিডি ফাইন্যান্সের-৬৩.০৮,
বেক্সিমকো লিমিটেডের-৪৬.৪৮,
বিডি থাইয়ের-৪৩.৪৫,
জিকিউ বলপেনের-৪৭.৭৪,
ফার্মা এইডসের-৪০.৩৫,
সামিট এলায়েন্স পোর্টের-৬১.৯৮,
বিডি ওয়েল্ডিংয়ের-৪০.৫৯,
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের-৪২.০৫,
লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের-৫৪.২৭,
বিকন ফার্মার-৩৭২.৫,
হাক্কানী পাল্পের-৮৮.৯৩,
শাহজিবাজার পাওয়ারের-৬৬.০৮ ও
এটলাস বাংলাদেশের-৫৩.৮৪।
গত ১ জুলাই কতিপয় কোম্পানির পিই রেশিও ৪০-এর উপরে থাকলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে এপেক্স স্পিনিংয়ের পিই রেশিও গত ১ জুলাই অবস্থান করে ৪১.৪৪ পয়েন্টে। বর্তমানে যা ৩০.৮৮ পয়েন্ট। এ ছাড়া
বিআইএফসির পিই ১ জুলাই ৫২.০৮ পয়েন্টে এবং বর্তমানে ১২.১৮ পয়েন্টে,
ডেসকোর ৫৯.৮৯ পয়েন্টের স্থলে ৩৪.৭৯ পয়েন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৭৪.১৭ পয়েন্টের স্থলে ১৫.৩৮ পয়েন্ট,
জেএমআই সিরিঞ্জের ৮৫.৫৮ পয়েন্টের স্থলে ৩৭.২৯ পয়েন্ট এবং
সিঙ্গার বিডির ৪৮.৫৩ পয়েন্টের স্থলে ৩৯.১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
গত ১ জুলাই এবং বর্তমানে ঋণাত্মক পিইতে অবস্থান করছে
অলটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ,
কেঅ্যান্ডকিউ,
এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড,
মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক,
মেঘনা পিইটি, মাইডাস
ফাইন্যান্স,
ন্যাশনাল টি,
রহিমা ফুড,
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক,
শ্যামপুর সুগার,
সোনারগাঁও টেক্সটাইল,
জিলবাংলা সুগার,
এপেক্স ফুটওয়্যার,
এইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড,
দুলামিয়া কটন, ফাইনফুডস,
জেমিনি সী ফুড,
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক,
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং,
ইনটেক অনলাইন,
ইমাম বাটন,
সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল,
জুট স্পিনার্স ও
নর্দার্ন জুট ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন গত দু’মাস ধরে উভয় পুঁজিবাজারে মূল্য সূচক ও টাকার অংকে লেনদেন অনেক বেড়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়ার কারণে পিই রেশিও বেড়েছে। যা কতিপয় শেয়ারে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ওভার অল মার্কেট পজেটিভ। তবে কিছু শেয়ারে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কিছু শেয়ারের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হয়ে লেনদেন করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্চেন্ট ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে ৪০ ঊর্ধ্ব পিই’র কোম্পানিগুলো অতি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ সব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে যেকোনো সময় লোকসানের সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া গানিতিক হিসাবে বিনিয়োগ ফেরত পেতেও পিই’র সমপরিমাণ সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, পিই রেশিও বেশি হওয়া মানে কোম্পানির আয় কম হওয়া সত্ত্বেও শেয়ার দর বেশি হওয়া। আর যে সব কোম্পানির পিই ঋণাত্মক সেগুলো লোকসানে রয়েছে। তাই এ সব কোম্পানিতে দেখেশুনে বিনিয়োগ করা উত্তম। কারণ, অতিমূল্যায়িত এ ধরনের শেয়ারগুলোর দর কখন অস্বাভাবিকহারে কমে যাবে তা গাণিতিক হিসাব করে বের করা কঠিন। তাই এ সব শেয়ারে সব সময় ঝুঁকি থাকে। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পিই রেশিওর শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন লোন দেওয়া হয় না।
Post a Comment
স্বাগতম