শেয়ারবাজারে আসছে ওষুধ খাতের কোম্পানি এক্মি ল্যাবরেটরিজ। প্রতিষ্ঠানটি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে পাঁচ কোটি শেয়ার ছাড়বে। এ উপলক্ষে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে রোড শোর আয়োজন করা হয়। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের ভিত্তি বা নির্দেশক মূল্য কত টাকা হবে তা নির্ধারণ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের আগে তাই সম্ভাব্য দর প্রস্তাবকারী বা প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রোড শো অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানি পাঁচ কোটি শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৪২৪ কোটি টাকা। অর্থপ্রাপ্তির দুই বছরের মধ্যে এ তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সূত্র : প্রথম আলো।
অনুষ্ঠানে এক্মির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, ওষুধের অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববাজারে চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সেই চাহিদা ও বাজার ধরতে এক্মি নতুন নতুন ওষুধ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়ও বাড়বে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান বলেন, এক্মির মতো পুরোনো ও ভালো মানের কোম্পানির সংখ্যা শেয়ারবাজারে যত বাড়বে বাজারের গভীরতাও তত বাড়বে। শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইসিবি নানাভাবে কাজ করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে এক্মিকে শেয়ারবাজারে আনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
তবে অনুষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিরা কোম্পানিটির বিভিন্ন তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা মনে করেন, সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি ভবনের অস্বাভাবিক দাম দেখিয়েছে। আবার নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কোম্পানিটি সম্ভাব্য যে আয়ের হিসাব দেখানো হেয়ছে, তাও বাস্তবসম্মত নয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত জুনের আর্থিক বছর শেষে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস অর্জিত হয়েছে পাঁচ টাকা ৬৫ পয়সা। শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভি দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৬ টাকা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জাবিলুর রহমান সিনহা, স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ সাহেদ রেজা, আইসিবির মহাব্যবস্থাপক আবদুর রউফ প্রমুখ।
নিয়ম অনুযায়ী, রোড শোর পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য প্রস্তাব করবে। পাঁচ শ্রেণির ন্যূনতম ২০টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দরের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে নির্দেশক মূল্য ঠিক হবে।


Post a Comment
স্বাগতম